চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন প্রধান কালের কণ্ঠকে বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে চালের দাম কেজিতে এক টাকা বাড়ানো হয়েছে। আর ধানের দাম বৃদ্ধির কারণে বাড়ানো হয়েছে আরো এক টাকা।
নিত্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী
সীমিত আয়ের মানুষজন এখন খুব কষ্টে বাজার সামলাচ্ছে। তিন বেলা ডাল-ভাত খাওয়ার কষ্টেও আছে অনেকে। নিম্নবিত্তরা খাদ্যতালিকা থেকে মাংস ও বড় মাছ বাদ দিয়েছে। বাড়তি দামের কারণে এখন মধ্যবিত্তরাও সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাবুবাজার, শ্যামবাজার ও জোয়ারসাহার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত তিন দিনের ব্যবধানে খুচরায় সব ধরনের মুরগি কেজিতে ২০ টাকা, ডিম ডজনে পাঁচ থেকে ১০ টাকা, সবজি কেজিতে পাঁচ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া আদা, পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, শুকনা মরিচসহ বাজারে প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তির দিকে।
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ট্রাকভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয় বাড়লে সবজির গড় দাম বেড়ে যায়। এ কারণেই মৌসুমের সময়ে কৃষক পর্যায়ে সবজির কেজি সাত-আট টাকায় নামলেও রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকার কমে বিক্রি হয় না।
কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের মেসার্স মা আয়েশা ব্রয়লার হাউসের ব্যবসায়ী মো. আমজাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিবহন খরচ বাড়তি এবং বাজারে মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত তিন দিনে ২০ টাকা পর্যন্ত মুরগির দাম বেড়ে গেছে। ব্রয়লার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, যা তিন দিন আগে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়, এটি তিন দিন আগে বিক্রি হয় ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। দেশি মুরগি কেজি ৫৩০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা।
জোয়ারসাহারা বাজারে কথা হয় ক্রেতা হিরক মল্লিকের সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত মাসে তিন-চারবার বাজারে আসা হয়। গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে থাকা এমন কোনো পণ্য নেই, যার দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়েনি।
রাজধানীর শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পদক ও আমদানিকারক মো. মাজেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ডলারের অস্থিরতার কারণে এমনিতেই রসুন, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে। এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এসব পণ্যের বাজারেও কিছু প্রভাব পড়বে। দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি ডলারের অস্থিরতা না কমে তাহলে আমদানীকৃত পণ্যের দাম আরো বাড়বে।
মো. মাজেদ বলেন, ‘আজ (গতকাল সোমবার) পাইকারিতে পেঁয়াজের কেজি ৩২ টাকা, আদা ১০৫ টাকা, চায়না রসুন ১১০ টাকা, হলুদ ১২৫ টাকা, দেশি শুকনা মরিচ ২৭০ টাকা ও ভারতীয় শুকনা মরিচ ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।’
সবজি
আর সবজি বিক্রেতারা বলছেন, কারওয়ান বাজারেই সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা। কারওয়ান বাজার থেকে একটা পিকআপে সবজি আনতে আগে ভাড়া এক হাজার টাকা লাগত, এখন দেড় হাজার টাকা লেগেছে। সব মিলিয়ে সবজির বাড়তি দাম ধরেছেন তাঁরা।
জোয়ারসাহারা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ (গতকাল) গোল বেগুন ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ৬০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৬০ থেকে ৭০, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, পটোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৪০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা, চালকুমড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা ও পেঁপে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
আটা, ময়দা, চিনি
আটা, ময়দা, চিনি, লবণের দামও বেড়ে গেছে। ৫০ কেজির প্রতি বস্তা আটায় বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ময়দায় বেড়েছে ৭০ টাকা, চিনিতে বেড়েছে ১৫০ টাকা। তিন দিন আগেও লবণ ৩৫, খোলা চিনি ৮০, প্যাকেট চিনি ৮৫ ও খোলা আটা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কেজিপ্রতি দাম বেড়ে লবণ ৩৮, খোলা চিনি ৮৫, প্যাকেট চিনি ৯০ ও আটা ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা দোকানে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায়।